১০০% নিশ্চিত চাকরি পেতে ছাত্র জীবনেই নিজেকে দক্ষ করবেন যেভাবে

রাজশাহী বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শহর, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্য পরিচিত। এখানে অবস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী কলেজসহ অনেক নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাজারো ছাত্রছাত্রীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে শুধুমাত্র একাডেমিক ডিগ্রি আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরি বাজারে যথেষ্ট নয়। রাজশাহীর মতো অঞ্চলে যেখানে শিল্প-কারখানার পরিমাণ সীমিত এবং সরকারি চাকরির সংখ্যা কম, সেখানে ১০০% নিশ্চিত চাকরি পেতে হলে ছাত্র জীবনেই কিছু নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

প্রথমত, প্রযুক্তি জ্ঞান ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করা এখন সময়ের দাবি। বর্তমান চাকরি বাজারে কম্পিউটার চালানো, মাইক্রোসফট অফিস, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, বা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো স্কিলগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। রাজশাহীতে বিভিন্ন আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেমন এলিভেট, ড্রিম আইটি, কিংবা সরকারের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো থেকে এসব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যায়। ইউটিউব ও অনলাইন কোর্সও হতে পারে এই দক্ষতা অর্জনের চমৎকার মাধ্যম।

দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়ানো আবশ্যক। চাকরি কিংবা ব্যবসা—যেকোনো ক্ষেত্রে ইংরেজি যোগাযোগ ক্ষমতা একজন ব্যক্তিকে এগিয়ে রাখে। ছাত্র জীবনে প্রতিদিন অন্তত একঘণ্টা ইংরেজি পড়া, লেখা, শোনা ও বলার চর্চা করলে ধীরে ধীরে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ইংরেজি ডিবেট ক্লাব, ইংলিশ স্পোকেন ক্লাস বা বন্ধুমহলে নিয়মিত ইংরেজি ব্যবহার সহায়ক হতে পারে।

তৃতীয়ত, ইন্টার্নশিপ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা জরুরি। রাজশাহীর বিভিন্ন এনজিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা স্থানীয় সংস্থায় ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করলে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। চাকরিদাতারা সবসময়ই সেই প্রার্থীদের প্রাধান্য দেয়, যারা কেবল তত্ত্বগত জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে।

চতুর্থত, ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন ও যোগাযোগ দক্ষতা (communication skill) গড়ে তোলা প্রয়োজন। চাকরি পাওয়ার অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো আত্মবিশ্বাস ও সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার ক্ষমতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করলে এই দক্ষতা সহজেই অর্জিত হয়।

পঞ্চমত, স্বনির্ভরতার দিকে ঝুঁকে বিকল্প ক্যারিয়ার গড়ে তোলাও বুদ্ধিমানের কাজ। রাজশাহীর কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে অ্যাগ্রো-ভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করা চাকরির বিকল্প হতে পারে। ফেসবুক বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ছাত্র জীবনেই ছোট ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

সবশেষে, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণই ছাত্র জীবনে সফলতা এনে দেয়। রাজশাহীর মতো শহরে শিক্ষার সুযোগ থাকলেও, চাকরি বাজারে টিকে থাকতে হলে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে গড়ে তুলতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ—এই তিনটি ক্ষেত্রেই উন্নতি করতে পারলেই ছাত্র জীবন থেকেই গড়ে উঠবে নিশ্চিত চাকরির ভিত্তি।

উপসংহার
রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র ভালো ফলাফল নয়, বরং সমন্বিত দক্ষতা উন্নয়নের মধ্য দিয়েই একজন ছাত্র চাকরি নিশ্চিত করতে পারে। তাই সময় থাকতে থাকতেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত—কারণ প্রস্তুতিই সফলতার চাবিকাঠি।

Views 315 times