
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে সচল হয়েছে রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল মিল। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিনিয়োগে এই পরিত্যক্ত মিলটি এখন একটি আধুনিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর আওতায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি)-এর কাছ থেকে মিলটির দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দ্রুতগতিতে কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যেই, কারখানাটিতে দুই হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যারা দিন ও রাত্রি—দুই শিফটে কাজ করছেন।
শনিবার সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন মিলটি পরিদর্শনে এসে এই রূপান্তর দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, একসময় রাজশাহীর মানুষকে চাকরির জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে ছুটতে হতো, কিন্তু এখন কাজ তাদের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। তিনি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কারখানার কর্মীদের এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিজেদের মনে করে যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী জানান, এই কারখানার মাধ্যমে তারা চাকরির অফার লেটার নিয়ে গ্রামের মানুষের কাছে যাবেন, মানুষকে আর চাকরির জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না। তাদের লক্ষ্য এই শিল্প পার্কটিকে একটি পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি আরও জানান, তাদের স্বপ্ন আগামী দুই বছরের মধ্যে এই প্রকল্পে সরাসরি ১২,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
এই কারখানায় বর্তমানে রপ্তানিমুখী নানা পণ্য, যেমন- ব্যাগ, মানি ব্যাগ এবং লাগেজ তৈরি হচ্ছে। একসময় যে মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছিল এবং স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে গিয়েছিল, সেই মিলটিই এখন নতুন যন্ত্রপাতির শব্দে মুখরিত।
কারখানার একজন নারী শ্রমিক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, তার বাবা এই মিলেই কাজ করতেন। মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। এখন তিনি নিজেই এখানে কাজ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন, যা তার মতো অনেক নারীর জীবনে পরিবর্তন এনেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে এটি কেবল রাজশাহীর অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে না, বরং সমগ্র উত্তরাঞ্চলে শিল্পের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রাকৃতিক জলাধার ও সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা রেখে গড়ে তোলা এই শিল্প পার্কটি অদূর ভবিষ্যতে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Views 470 times