ঢাকা কেন্দ্রিক চাকরির বাজার, হতাশায় রাজশাহীর শিক্ষিত তরুণরা

রাজশাহী, যা ঐতিহাসিকভাবে শিক্ষা, শান্তি ও সম্ভাবনার নগরী হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে এক গভীর কর্মসংস্থান সংকটের মুখোমুখি। এই সংকটের শিকার হচ্ছেন হাজারো শিক্ষিত তরুণ-তরুণী, যাদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরও বছরের পর বছর ধরে বেকার থাকতে হচ্ছে। ভিডিওটিতে এই ঢাকাকেন্দ্রিক চাকরির বাজারের ফলে রাজশাহীর শিক্ষিত যুব সমাজের দুর্ভোগ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক অচলাবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

স্থানীয়দের হতাশা ও সংগ্রাম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা রায়হান ও সাদিয়া আফরোজের মতো তরুণরা চাকরির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। তাদের মতে, নিজ শহরে থেকে একটি চাকরি করা এবং এর মধ্য দিয়ে যে আনন্দ পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে তারা বঞ্চিত। শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে বেকার থাকাটা তাদের মধ্যে গভীর হতাশা এবং মানসিক চাপের সৃষ্টি করছে

সংকটের মূল কারণ: শিল্পের অভাব ও ঢাকামুখী পরীক্ষা
রাজশাহী অঞ্চলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস হাব কিংবা সক্রিয় কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প নেই। ফলে প্রতি বছর স্নাতক পাস করা অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না । এই পরিস্থিতির কারণে রাজশাহীর শিক্ষিত তরুণদের চাকরির পরীক্ষার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে রাজধানী ঢাকার দিকে ছুটতে হয়। সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত খরচ এবং দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বাধা ও উচ্চ বেকারত্বের হার
ভিডিওতে উঠে এসেছে যে, বেকারত্বের উচ্চ হারের একটি অন্যতম কারণ হলো নতুন উদ্যোক্তা তৈরি না হওয়া। এর কারণ, ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজলভ্য না করে বরং কষ্টসাধ্য ও কঠিন করে রাখা হয়েছে। শিল্পের অভাব এবং আর্থিক সহায়তার ঘাটতি উভয়ই এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।

প্রত্যাশিত পদক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞের মতামত
ভিডিওতে হাইটেক পার্ক বা অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের উল্লেখ থাকলেও, রাজশাহী চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি মনে করেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই এই সংকট কাটছে না। তিনি নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন দেশকে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে ৬৪টি জেলার মধ্যে রাজশাহীর মতো বড় বিভাগগুলোর উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক বৈষম্য দূর করে অঞ্চলভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে রাজশাহীর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প প্রশিক্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা বাড়ানো অপরিহার্য। যদি সরকার এই বিষয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং সুনজর দেয়, তবেই এই অঞ্চলের বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হবে।

পরিশেষে, এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা—রাজশাহীর উন্নয়নকে কেবল সৌন্দর্য দিয়ে নয়, বরং কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা হোক।

Views 226 times