
হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়। এই ৭২ ঘণ্টাই ঠিক করে দেবে—আপনি ভেঙে পড়বেন, নাকি ঘুরে দাঁড়াবেন। নিচে ধাপে ধাপে গুছিয়ে বলা হলো কী করবেন, কীভাবে করবেন।
১) নেটওয়ার্কই আপনার প্রথম লাইফলাইন
চাকরি যাওয়ার খবরটা চুপচাপ বসে রাখবেন না। বরং সঙ্গে সঙ্গেই আপনার নেটওয়ার্কে জানান—কে কোথায় কাজ করছে, কোথায় ফ্রি-ল্যান্স বা কনসাল্টেন্সির সুযোগ আছে। যাদের সেভিং কম, তাদের জন্য টুকটাক ফ্রি-ল্যান্স কাজ এখন দরকারি সাপোর্ট। তবে মনে রাখবেন, মূল লক্ষ্য থাকবে ফুলটাইম জব খোঁজা।
২) ছয় মাসের সেভিং মানেই মানসিক শান্তি
আদর্শভাবে ছয় মাসের খরচ রিজার্ভ থাকা উচিত। না থাকলে এখনই যা আছে, শক্ত করে ধরে রাখুন। এক টাকাও অপ্রয়োজনীয় খরচ করবেন না। কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকেই জন্ম নেয় সবচেয়ে বড় মানসিক চাপ।
৩) আজ থেকেই বাজে খরচ বন্ধ
অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন, ডিশ লাইন, লাক্সারি খরচ—সব বন্ধ। অগ্রাধিকার দিন শুধু খাবার, বাসা ভাড়া, বাচ্চাদের স্কুল, মেডিসিন আর ইন্টারনেটকে। চাইলে নিজের একটি ডেইলি রুটিন বা খরচের চেকলিস্ট বানান—ডিসিপ্লিনই এখন আপনার শক্তি।
৪) কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন—লিস্ট করুন
আগেই ঠিক করে ফেলুন—কোন কোন কোম্পানিতে এপ্লাই করবেন, সেখানে কে পরিচিত, HR Head কে। LinkedIn, Facebook—সব জায়গায় কানেক্ট হন। পুরোনো কলিগ বা বসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে লজ্জা নেই—এটাই বাস্তবতা।
৫) এই পাঁচটি ডকুমেন্টই আপনার অস্ত্র
ডে-ওয়ান থেকেই প্রস্তুত থাকুন। আপনার হাতে থাকতে হবে একটি প্রফেশনাল CV, কভার লেটার, বিডিজবস প্রোফাইল, আপডেটেড LinkedIn প্রোফাইল এবং একটি ভিডিও CV। এগুলোই আপনাকে আবার মাঠে নামাবে।
৬) চাকরি নেই মানে অফিস নেই—এমন নয়
আগে অফিস আওয়ার ছিল ৯–৬, এখনও তাই। বাসায় একটি নির্দিষ্ট স্পেস বানান, নিয়ম করে জব সার্কুলার খুঁজুন, পড়াশোনা করুন। ব্রেইনকে ভালো কনটেন্ট দিন, ধর্মীয় কাজে নিয়মিত থাকুন—মন স্থির থাকলে পথ পরিষ্কার হয়।
৭) ইন্টারভিউ জিততে হলে আগে ঘরে জিতুন
কী প্রশ্ন আসতে পারে, কীভাবে উত্তর দেবেন—সবকিছুর সলিড প্রিপারেশন নিন। আয়নার সামনে প্র্যাকটিস করুন, নিজের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস আনুন। প্রস্তুতিই ইন্টারভিউর অর্ধেক জয়।
৮) সব জবে এপ্লাই নয়—স্মার্টলি এপ্লাই
যে জব সার্কুলারের সঙ্গে আপনার প্রোফাইল অন্তত ৮০% ম্যাচ করে, শুধু সেগুলোতেই এপ্লাই করুন। না হলে সময় নষ্ট হবে, আর কনফিডেন্স ধীরে ধীরে কমে যাবে।
৯) জব ট্র্যাকিং না করলে বিপদ
কোথায় এপ্লাই করলেন, কবে করলেন, ফলোআপ দরকার কি না—সব লিখে রাখুন। শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করবেন না। সময়ের আগে এগোনোই আপনাকে আলাদা করবে।
১০) টেনশন নয়—কন্ট্রোল নিন
টেনশন কনফিডেন্স খেয়ে ফেলে, আর কনফিডেন্স কমলে ভুল বাড়ে। এই চক্র ভাঙুন অটোসাজেশন, মেডিটেশন আর পজিটিভ রুটিন দিয়ে। মনে রাখবেন—চাকরি গেছে, আপনি যাননি। আপনি এখনও দাঁড়িয়ে আছেন, আর এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
Views 103 times