
আপনি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন শর্টলিস্ট হচ্ছেন না? HR সাধারণত আপনার সিভিতে এবং আচরণে নিচের ২০টি বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন:
১. জব ডেসক্রিপশন ম্যাচ: আপনার অভিজ্ঞতা পদের সাথে সরাসরি প্রাসঙ্গিক কি না। (যেমন: সেলস রোলে অ্যাডমিন প্রোফাইল দিলে রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে)।
২. স্পষ্ট ক্যারিয়ার লক্ষ্য: আপনি ভবিষ্যতে কী হতে চান তাতে স্বচ্ছতা থাকা চাই। একই সাথে একাধিক ভিন্ন বিভাগে আগ্রহ দেখালে HR বিভ্রান্ত হন।
৩. ফলাফল-নির্ভর অভিজ্ঞতা: দায়িত্বের চেয়ে অর্জনের ওপর জোর দিন। "ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করেছি" না লিখে লিখুন "৩০+ ক্লায়েন্ট সামলে রিটেনশন ২০% বাড়িয়েছি।"
৪. স্কিল রেলিভেন্স: পদের জন্য অপ্রয়োজনীয় স্কিল বাদ দিয়ে শুধু কার্যকর স্কিলগুলো হাইলাইট করুন। (যেমন: ডিজিটাল মার্কেটিং-এ SEO থাকা বাধ্যতামূলক)।
৫. সিভি ফরম্যাটিং: সিভির ডিজাইন হতে হবে মার্জিত ও পরিষ্কার। হিজিবিজি ডিজাইন বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ফন্ট নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৬. ব্যাকরণ ও বানান: সিভিতে বানান ভুল থাকা মানেই আপনি আপনার কাজ নিয়ে যথেষ্ট যত্নশীল বা সিরিয়াস নন।
৭. তথ্যের ধারাবাহিকতা: আপনার কাজের তারিখ, পদবি এবং অন্যান্য তথ্যে যেন কোনো গরমিল না থাকে।
৮. চাকরিতে স্থায়িত্ব: খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার চাকরি পরিবর্তন আপনার নির্ভরযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
৯. অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট: আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে বিশেষ কী অবদান রেখেছেন বা কোনো পুরস্কার পেয়েছেন কি না, তা উল্লেখ করুন।
১০. ওনারশিপ মাইন্ডসেট: কোনো কাজ শুধু 'সহায়তা' করা নয়, বরং 'নেতৃত্ব' দেওয়ার মানসিকতা সিভিতে ফুটিয়ে তুলুন।
১১. প্রবলেম সলভিং সক্ষমতা: সমস্যা সমাধানে আপনি কতটা দক্ষ তার বাস্তব প্রমাণ বা উদাহরণ দিন।
১২. কমিউনিকেশন স্কিল: আপনার সিভিটি কতটুকু গোছানো, তা দেখেই HR আপনার যোগাযোগের দক্ষতা আঁচ করে নেন।
১৩. শেখার মানসিকতা: প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট রাখতে আপনি নতুন কোনো কোর্স বা সার্টিফিকেশন করছেন কি না।
১৪. ইন্ডাস্ট্রি নলেজ: সংশ্লিষ্ট সেক্টরের খুঁটিনাটি টার্ম বা ভাষা সিভিতে ব্যবহার করুন, যা প্রমাণ করবে আপনি ইন্ডাস্ট্রি বোঝেন।
১৫. প্রফেশনাল ইমেইল আইডি: ছদ্মনাম বা অদ্ভুত ইমেইল আইডির বদলে নিজের নামযুক্ত প্রফেশনাল ইমেইল ব্যবহার করুন।
১৬. লিঙ্কডইন প্রোফাইল: আপনার সিভি এবং অনলাইন প্রফেশনাল প্রোফাইলের তথ্যে যেন মিল থাকে।
১৭. কাস্টমাইজড কভার লেটার: সব জায়গায় এক কভার লেটার কপি-পেস্ট না করে কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন করুন।
১৮. কোম্পানি রিসার্চ: ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগে কোম্পানির কাজ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখা আবশ্যক।
১৯. অ্যাটিটিউড ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ: আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলা এবং অহেতুক জড়তা এড়িয়ে চলা আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে।
২০. কালচারাল ফিট: আপনি একা কাজ করতে পছন্দ করেন নাকি টিমের সাথে মানিয়ে নিতে পারেন—এটি নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
উপসংহার:
প্রতিষ্ঠান শুধু আপনার সার্টিফিকেট দেখে না, তারা খোঁজে একটি সঠিক প্রফেশনাল মাইন্ডসেট। এই ২০টি পয়েন্ট ঠিক থাকলে আপনার শর্টলিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
Views 13 times